নাটোরের বড়াইগ্রামে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপি কর্মী মেহেদী হাসান নোমান। মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় উপজেলার রয়না ভরট হাট এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তিনি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
মেহেদী হাসান নোমান বড়াইগ্রাম সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং 'তারুণ্য নির্ভর বাংলাদেশ'-এর আহ্বায়ক। তিনি রয়না ভরট গ্রামের আলহাজ্ব শওকত ওসমানের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বড়াইগ্রাম সদর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব শওকত ওসমান, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান মবু, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মবেদুল ইসলাম, যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মোস্তফা ও ছাত্রদলের সভাপতি সাইফ আল মাহমুদ নিশাতসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে নোমানের অভিযোগ
লিখিত বক্তব্যে মেহেদী হাসান নোমান অভিযোগ করেন, "আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমি ও আমার পরিবার আন্দোলন করতে গিয়ে বারবার কারাবরণ করেছি। এখন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, গত রোববার জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর বড়াইগ্রাম পৌর এলাকায় এক পথসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-হক বাচ্চুর বিরুদ্ধে কথা বললে উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুল হক বকুল ও বাচ্চু বাহিনীর লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। এতে শতাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অন্তত ১৫-২০ জন আহত হয় বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নোমান অভিযোগ করেন, "হামলার পর থেকে বকুল ও বাচ্চু আমার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখাচ্ছে। আমি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ চাই, কোনো অশান্তি চাই না।"
বকুলের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে যুবদল নেতা মোস্তাফিজুল হক বকুল বলেন, "মেহেদী হাসান নোমান বড়াইগ্রাম পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শরিফুল হক মুক্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছিলেন। তাকে শুধু এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল। কোনো মারধর বা হুমকি দেওয়া হয়নি।"
পুলিশের বক্তব্য
বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুব আলম জানান, "এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"