মোঃ বাদশা প্রামানিক, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতারা আবিউন্নেছা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাসিরা আক্তারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছে একটি কুচক্রী মহল। গত ২৩ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে দাখিল করা অভিযোগপত্রে তাকে নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়। তবে এ অভিযোগের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীদের মধ্যে থাকা কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগের ব্যাপারে সুস্পষ্ট প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন এবং প্রশ্নের জবাবে তারা বিষয় পরিবর্তন করে অন্য প্রসঙ্গে কথা বলেন।
প্রধান শিক্ষিকা নাসিরা আখতার জানান, ২০১৫ সালে তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে যোগদানের পর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক অবকাঠামো এবং শিক্ষার মান劇ভাবে উন্নয়ন করেছেন। তার আমলে নির্মিত হয়েছে বহুতল ভবন, সীমানা প্রাচীর, আধুনিক মানের শহীদ মিনার, নিরাপদ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ওয়াশব্লক, বিজ্ঞানাগার ও সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত শ্রেণিকক্ষ।
তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ, উন্নত সেবা কর্ণার এবং মাঠ সংস্কারসহ নানা উন্নয়ন কাজের ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ১২শ ছাড়িয়েছে। বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদিত ম্যানেজিং কমিটি বিদ্যালয় পরিচালনা করছে।
অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সুনাম দেখে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে ষড়যন্ত্র করছে।”
এদিকে, ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান জানান, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সমন্বয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুতই সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নাসিরা আখতারের নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি বিগত ১০ বছরে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছে এবং এলাকায় শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অথচ একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই সাফল্য ম্লান করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এ নিয়ে সচেতন মহল মনে করছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করার যেকোনো অপপ্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।