March 31, 2026, 1:39 pm

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: রাজনীতির মোড়কে বন্ধুত্বের সংকট

মিরাজ হুসেন প্লাবন

ধর্ম নয়, রাজনীতি—দুই প্রতিবেশীর দ্বন্দ্বের মূল কারণ

লেখক: সাবেক ছাত্রদল নেতা ও এডুকেশন কনসালট্যান্ট

বর্তমান বিশ্বে কোনো দেশের একক আধিপত্য ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। শুধু সামরিক শক্তির উপর নির্ভর করে আধিপত্য কায়েম সম্ভব নয়। টেকনোলজি, অর্থনীতি এবং বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষতায় দুনিয়া এখন বহুমুখী শক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিও এই বাস্তবতার বাইরে নয়।

একসময় দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের একক আধিপত্য ছিল। তবে এখন চারপাশে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ রেখে সুপারপাওয়ার হওয়ার সুযোগ ক্রমেই ক্ষীণ। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এর একটি উদাহরণ। যদিও দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে আধ্যাত্মিক ও সামাজিক সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ, তবে মনস্তাত্ত্বিক বিরোধ অনেক পুরোনো।

ধর্ম নয়, রাজনীতিই দ্বন্দ্বের কারণ
ভারত-বাংলাদেশের বিরোধের মূলে ধর্ম নয়, বরং রাজনৈতিক কারণই মুখ্য। বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই এই বিরোধের শুরু। অথচ বাংলাদেশে মুসলমান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে নেপালের সম্পর্ক সবসময়ই ভালো, যদিও নেপাল একটি হিন্দু রাষ্ট্র। মালদ্বীপ, ভুটান—সব প্রতিবেশী দেশেই ভারতের সম্পর্ক আজ তলানিতে।

ভারতের পররাষ্ট্রনীতির ভুল
ভারতের বড় ভুল হচ্ছে তারা নিজেদের প্রতিবেশীদের ছোট করে দেখেছে। বিশেষত বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারকে সমর্থন করতে গিয়ে ভারতের নগ্ন হস্তক্ষেপ অনেকের মনোবেদনার কারণ হয়েছে। ভারতের এ একপেশে নীতি শুধু সরকার নয়, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।

ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ
ভারত যদি সত্যিকার অর্থে দক্ষিণ এশিয়ার নেতৃত্ব দিতে চায়, তবে তাকে নীতি বদলাতে হবে। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে প্রতিবেশী ছোট দেশগুলোর সঙ্গে। ভারতকে বুঝতে হবে যে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম প্রযুক্তি, শিক্ষা ও দক্ষতায় এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেশীদের ছোট করে দেখে নিজেদের ‘মোড়লিপনা’ প্রদর্শনের প্রবণতা ছেড়ে ভারতকে একটি অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের পেজ লাইক করুন