বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘিতে থাকা কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বুধবার (৩ জুন) সকাল থেকে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের একটি দল কুমিরটিকে ধরার প্রস্তুতি শুরু করেছে।
এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মাজারে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী ও ভক্তের সমাগম ঘটে। সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পর তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কুমিরটি স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাজার এলাকায় নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে।
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, খুলনা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল কুমিরটির অবস্থান ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করছে। পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে কুমিরটি ধরার পদ্ধতি, স্থানান্তরের সময় এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি বিষয় নির্ধারণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাত ৮টার দিকে মাজার সংলগ্ন দিঘিতে গোসল করতে নেমে সাত বছর বয়সী ফাতেমা আক্তার কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিরটি শিশুটির পা ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। পরদিন মঙ্গলবার ভোরে দিঘির মহিলা ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মর্মান্তিক এ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী ও ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসন কুমিরটিকে সুন্দরবনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।